Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

চর জীবিকায়ন কর্মসূচী (CLP)

 

চর জীবিকায়ন কর্মসূচী বাংলাদেশ সরকারের পল­ী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বৃটিশ সরকারের উন্নয়ন বিষয়ক বিভাগ-ইউকেএইড ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের উন্নয়ন বিষয়ক বিভাগ এর সহযোগিতায় পরিচালিত। চর এলাকা বিশেষ করে  দ্বীপচরে  বসবাসকারী হত দরিদ্র মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য ২০০৪ সালের জুলাই মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সিএলপির প্রথম পর্যায়ের কাজ জুন ২০১০ সালে শেষ হয়েছে এবং এপ্রিল ২০১০ থেকে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে যা চলবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত।  যমুনা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত চরাঞ্চলের জনগণের চরম দারিদ্রতার মাত্রা ৫০% এ হ্রাসকরণ এবং কর্মসূচি এলাকাভুক্ত দরিদ্র নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবিকায়নে নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমেজীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

নির্বাচিত উপকারভোগী পরিবারের জন্য নিম্নোক্ত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে সিএলপি কাজ করছে-

·        দারিদ্র্য হ্রাস ও বিমোচনের পদক্ষেপ নেয়া;

·        জীবিকায়ন নিশ্চিত করা;

·        উপকারভোগী পরিবারগুলোতে সম্পদ হস্তান্তর করা, সহায়তাদানের মাধ্যমে তাদেরকে কর্মক্ষম করে জীবিকায়নের নিরাপত্তা দান ও তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা এবং

·        পরিবেশের বৈরিতার কারণে উপকারভোগীদের জীবন ও সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর  পদক্ষেপ নেয়া।

 

উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীঃ

দ্বীপচরের হতদরিদ্র পরিবার যারা -

·        দ্বীপ চরের বাসিন্দা এবং ঐ চরে কমপক্ষে ৬ মাস ধরে বসবাস করে।

·        যাদের কোন নিজস্ব বসতভিটা নাই(উত্তরাধিকার সূত্রেও জমির মালিক হবেনা এবং জমি বর্গা চাষ করে না)।

·        ২টি ছাগল বা ভেড়া, ১০ টি মুরগী এবং ১টি বর্গা গরুর বেশি গবাদি প্রাণী নেই

·        অন্য কোন কর্মসূচী থেকে ঋন গ্রহন করে নাই

·        অন্য কোন সম্পদ হস্তান্তর কর্মসূচী থেকে অর্থ বা সম্পদ গ্রহন করে নাই

·        দলীয় সাপ্তাহিক মিটিং এ স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মানসিকতা সম্পন্ন এবং জীবিকায়ন কর্মসুচীতে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক

 

 

সিএলপি’র প্রধান কার্যক্রম

সিএলপি’র আওতায় প্রধানতঃ ৩ (তিন) ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়-

·       মানব সম্পদ  উন্নয়ন

·       অবকাঠামো উন্নয়ন

·       জীবিকায়ন উন্নয়ন

মানব সম্পদ উন্নয়ন

ক. সামাজিক উন্নয়ন:

·        দল গঠন: গড়ে ২০ জন মূল অংশগ্রহনকারী নিয়ে দল গঠন করা হয় এবং সাপ্তাহিক সভার মাধ্যমে ৬ টি বিষয়ে ( সমাজ বিশে­ষণ, সামাজিক পুঁজি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, নাগরিক দায়দায়িত্ব, দুর্যোগ প্রস্ত্ততি ও ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা) ৪৫ টি সেশন পরিচালনা করা হয়।

·        গ্রাম উন্নয়ন কমিটি গঠন: গ্রামবাসী এবং মূল অংশগ্রহনকারীদের সমন্বয়ে গ্রাম উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়। গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

·        কিশোর-কিশোরী দল গঠন: প্রতিটি গ্রামে কিশোর এবং কিশোরী নিয়ে আলাদা আলাদা দল গঠন করা হয়। কিশোর-কিশোরীদেরকে মানসিক ও সামাজিকভাবে সচেতন করে সমাজিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবার উপযোগী করে গড়ে তোলা।

·        বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ: অংশগ্রহনকারীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সামিজিক বিষয় যেমন: জেন্ডার, বাল্যবিবাহ, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, স্যানিটেশন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

L.   প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প

·        দরিদ্র চরবাসীদের বিনামূল্যে এবং নামমাত্র মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। সিএলপি পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় স্যাটেলাইট ক্লিনিক, চর স্বাস্থ্যকর্মী ও রেফারেল সেন্টারের মাধ্যমে নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়ে থাকে। স্যাটেলাইট ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনের জন্য প্রত্যেক মূল অংশগ্রহনকারীকে ৫০১ টাকা মূল্য মানের ভাউচার প্রদান করা হয়েছে এই ভাউচারের বিনিময়ে তারা সেবা গ্রহন করে।

·        গ. সামাজিক নিরাপত্তা:

·        জরুরী সাহায্য: নির্বাচিত গ্রামের কোন পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হলে ঐ পরিবারকে ২০০০ টাকা নগদ সাহায্য প্রদান করা হয়। এছাড়া আগুনে পোড়া, ঘূর্নিঝড় ইত্যাদির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকেও এই কর্মসূচীর মাধ্যমে সাহায্য করা হয়ে থাকে।

·        আইইপি নিরাপত্তা জাল: মঙ্গাকালীন সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রকল্প (আইইপি) বাস্তবায়িত হয়। যে সমস্ত পরিবারে মাটি কাটার কর্মক্ষম মানুষ নেই সেই পরিবারকে সেই সময়কাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক ২০০ টাকা প্রদান করা হয়।

 

M.                        গ্রামীণ সঞ্চয় এবং ঋণ (ভিএসএল) প্রকল্পঃ  ভিএসএল সমিতি হচ্ছে কিছু সংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে সঞ্চয় করা এবং সেই সঞ্চয় হতে ঋণ নেয়া। এই সমিতির উদ্দেশ্য হচ্ছে কমিউনিটিতে অবস্থানকারী এমন দরিদ্র জনসাধারণ যারা ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় নয় অথবা ক্ষুদ্র ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা হতে বঞ্চিত তাদেরকে স্বল্প পরিমান সঞ্চয় করার এবং সেই সঞ্চয় থেকে স্বল্প পরিমান ঋণ সুবিধাভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।

অবকাঠামো উন্নয়ন

·        নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

·        বসতভিটা উঁচুকরণে সিএলপি ২০০৭ সালের বন্যায় পানির উচ্চতা বিবেচনা করে এবং

·        সিএলপি প্রত্যাশা করে তার মূল অংশগ্রহনকারীর সকলেই বসতভিটা উঁচু করণের সুবিধা গ্রহন করে বন্যামুক্ত স্থানে বসবাস করবে।এছাড়া মঙ্গাকালীন দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্প মেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের উন্নয়নে নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি করাই অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যক্রমের প্রধান কাজ।

·        অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় বসতভিটা উঁচুকরণের মাধ্যমে উপকারভোগীদেরকে বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা করা, স্যানিটেশন ও নিরাপদ

·        সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে চর এলাকার নির্বাচিত ভূমিহীন ও সম্পদহীন পরিবারগুলোর সম্পদ বৃদ্ধি ও সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সচ্ছলতা আনয়ন করা জীবিকায়ন উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

 

জীবিকায়ন উন্নয়ন

 এর আওতায় ৪ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়:

·        ক. সম্পদ হস্তান্তর প্যাকেজ:মূল অংশগ্রহনকারী সকল পরিবার ১৬,০০০ টাকা মূল্যের আয়বৃদ্ধিকরণ সম্পদ (আইজিএ) পাবে। এই সম্পদ অংশগ্রহনকারীদের পছন্দমত ক্রয় করে প্রদান করা হয়।

·        পারিবারিক আয় সহয়তা এবং সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা:মূল অংশগ্রহনকারীগণ আয় সহায়তা এবং সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ভাতার জন্য বরাদ্দকৃত ৮১০০ টাকা থেকে প্রথম ৬ মাসে মাসিক ৬৫০ টাকা হারে এবং অবশিষ্ট অর্থ ৩৫০ টাকা হারে পরবর্তী ১২ মাস ব্যাপী পাবে।

·        ভাউচার স্কিমের মাধ্যমে গবাদি প্রাণির সেবা প্রদান: প্রাণি সম্পদ সেবকের মাধ্যমে ১৮ মাস যাবৎ গরু- ছাগলের টিকা প্রদান করা হয়। অংশগ্রহনকারীগণ সেবকের নিকট ভাউচারের মাধ্যমে সেবা গ্রহন করেন যার অর্থ সিএলপি প্রদান করে।

·        গবাদি প্রাণি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: প্রত্যেক অংশগ্রহনকারীকে গবাদি প্রাণি পালন ও উৎপাদন  বিষয়ক ৫টি ১দিনের প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়।